কনটেন ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা অবশ্যই নিন্দনীয়। একজন নাগরিকের ব্যবসা ও সম্পদে হামলা হলে তার বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু বিচার চাইতে গিয়ে প্রমাণ ছাড়া একটি রাজনৈতিক দলকে দায়ী করে দেওয়া—এটিও কি দায়িত্বশীল আচরণ?
ঘটনার পরপরই সালমান মুক্তাদিরের বক্তব্যে বিএনপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠে আসে। তিনি দাবি করেন, চাঁদা না দেওয়ার কারণেই বিএনপির লোকজন হামলা করেছে। অথচ পরবর্তী বক্তব্যে তিনিই বলেন, তার কাছে ব্যক্তিগতভাবে কেউ চাঁদা চায়নি। এরপর আবার বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ ল্যান্ড ওনার বলতে পারবেন।
তাহলে প্রশ্নটা খুবই সরল-
ঘটনার প্রকৃত কারণই যদি আপনি জানতেন না, তাহলে ঘটনার কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিএনপিকে দায়ী করার এত তাড়াহুড়ো কেন?
আপনি কি হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করেছিলেন?
আপনি কি তাদের সঙ্গে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পর্কের কোনো প্রমাণ পেয়েছিলেন?
আপনি কি ল্যান্ড ওনারের বক্তব্য শুনেছিলেন?
নাকি আগে একটি রাজনৈতিক দলের নাম নির্ধারণ করে, পরে ঘটনার সঙ্গে সেটিকে মিলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল?
আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো—পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটির পেছনে ভূমি বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, স্টুডিওটি মূলত হামলাকারীদের লক্ষ্য ছিল না; তারা ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সেখানে গিয়ে স্থাপনা ভাঙচুর করে এবং সেই ঘটনার মধ্যে সালমানের স্টুডিওও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে আটক/গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। সালমান মুকতাদির আপনার জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি, ল্যান্ড ওনার কুখ্যাত ভূমিদস্যু নাজিম খান। আপনার স্টুডিও টিও দখলকৃত ভূমির উপরই প্রতিষ্ঠিত।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও বলেছেন, সালমানের বিএনপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগটি ‘সুইপিং অ্যালিগেশন’ এবং তিনি নির্দিষ্ট মামলা করলে অভিযোগটি তদন্ত করা হবে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে—
তদন্তের আগেই আপনি কীভাবে বিএনপিকে অপরাধী বানিয়ে ফেললেন?
একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটরের লাখ লাখ অনুসারী আছে। তার একটি বক্তব্য মুহূর্তের মধ্যে হাজার হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। সেই অবস্থানে দাঁড়িয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ করার আগে কি ন্যূনতম দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন ছিল না?
আর আপনি যখন দেশের আইন ও বিচারব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তখন আরও বড় প্রশ্ন সামনে আসে—
বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে বাংলাদেশের আইন ও বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা নেই—এমন বক্তব্যের উদ্দেশ্য কী?
আইন যদি বিশ্বাস না করেন, তাহলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কি আদালত?
ফেসবুক লাইভ কি তদন্ত সংস্থা?
আর আপনার বক্তব্যই কি অপরাধের চূড়ান্ত রায়?
না।
অপরাধের বিচার হবে তদন্তে।
প্রমাণের ভিত্তিতে।
আইনের মাধ্যমে।
আরও একটি বিষয় নিয়ে আপনাকে জবাব দিতে হবে।
ঘটনার পরপরই এনসিপির সার্জিস আলম, শিবিরের সাদিক কাইয়ুম প্রায় একই বয়ানে ঘটনাটিকে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেছেন—এটি নিছক কাকতালীয়, নাকি কোনো সমন্বিত রাজনৈতিক ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা, সেটিও জনগণের প্রশ্ন হতে পারে।
কারণ প্রশ্ন করার অধিকার জনগণের আছে।
সালমান মুক্তাদিরের কাছে তাই আমার সরাসরি প্রশ্ন—
আপনি যখন নিজেই জানতেন না ঘটনার প্রকৃত কারণ কী, তখন বিএনপিকে দায়ী করার এত তাড়া কেন ছিল?
আপনি যখন বলছেন কেউ আপনার কাছে চাঁদা চায়নি, তখন বিএনপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগের ভিত্তি কী?
সালমান মুকতাদির, আপনাকে এসব প্রশ্নের জবাব দিতেই হবে। আপনি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলকে চাঁদাবাজ হিসাবে চিত্রায়িত করেছেন। আপনি বাংলাদেশে বসবাস করে এদেশের আইনের প্রতি আপনার বিশ্বাস নেই। আপনি ঘটনার বিস্তারিত না জেনেই বিএনপি ও সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়ী করার অপকৌশল অবলম্বন করেছেন।
সুতরাং সালমান মুকতাদির আপনাকে জনতার প্রশ্নের জবাব দিতেই হবে!!
মোঃ লুৎফুল হাই ভূঁইয়া
প্রতিষ্ঠাতা,সভাপতি
তারেক রহমান সাইবার ফোরাম (TRCF)

