বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান নিয়ে নানা সমীকরণ চলছে। এর মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র আত্মপ্রকাশ ও তাদের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি নিয়ে জনমনে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দলটির শীর্ষ নেতাদের সাম্প্রতিক লাগামহীন বক্তব্য, রাজনৈতিক শিষ্টাচারহীনতা এবং অহংকারমূলক আচরণ অনেককেই অতীত স্বৈরাচারী শাসনের অন্ধকার দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অপরিপক্ব ও হঠকারী রাজনীতি এনসিপিকে খুব দ্রুতই এক গভীর অস্তিত্ব সংকটের মুখে ফেলবে। আর এই পুরো ষড়যন্ত্রের নেপথ্য পরিচালক বা ‘নাটের গুরু’ জামায়াতে ইসলামী শেষ পর্যন্ত তাদের রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ হারিয়ে ইতিহাসের সেই কোণঠাসা অবস্থায়—অর্থাৎ অতীতের ৭ থেকে ১১টি আসনের বৃত্তেই বন্দি হতে চলেছে।
এনসিপির উগ্র রাজনৈতিক আচরণ এবং অতীতের ছায়া
শুরু থেকেই এনসিপির রাজনৈতিক আদর্শ ও পথচলা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের আচার-আচরণে যে অসহিষ্ণুতা ও বেয়াদবি দেখা যাচ্ছে, তা গণতান্ত্রিক রাজনীতির ন্যূনতম শিষ্টাচারের সাথেও যায় না। জনগণের মনে প্রশ্ন জাগছে—এই প্ল্যাটফর্মটি কি কেবল রাজনৈতিক অপরিণামদর্শিতার শিকার, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো গভীর চক্রান্ত লুকিয়ে আছে? উগ্র ও আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করে জনসমর্থন অর্জনের এই অপচেষ্টা শেষ পর্যন্ত দলটিকে সাধারণ জনগণ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেবে, যা তাদের অস্তিত্বকে মারাত্মকভাবে বিপন্ন করে তুলছে।
নেপথ্যের কারিগর কে?
এনসিপির এই মাঠের রাজনীতির আড়ালে মূল ছকটি কষছে জামায়াতে ইসলামী। বিগত জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতায় যাওয়ার একটি সুদূরপ্রসারী নীল নকশা করেছিল জামায়াত, যার মূল ভিত্তি ছিল একটি নির্দিষ্ট বড় দলের ভোট ব্যাংক। কিন্তু দেশের সচেতন জনগণ, বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায় এবং সাধারণ ভোটাররা সেই ফাঁদে পা না দেওয়ায় তাদের সেই স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়।
সেই ব্যর্থতার পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকে জামায়াত এখন দেশে একটি কৃত্রিম অস্থিতিশীলতা তৈরি করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে চায়। তাদের উদ্দেশ্য একটি অবাস্তব ও অনভিপ্রেত মধ্যবর্তী নির্বাচন আদায় করা। কিন্তু একা এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় বলেই তারা অত্যন্ত চতুরতার সাথে ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী শক্তির অনুসারীদের সাথে গোপন সমঝোতার পথ বেছে নিয়েছে। নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে তারা এনসিপিকে ‘ফার্স্ট গ্রাউন্ডে’ বলির পাঁঠা বানিয়ে সামনে ঠেলে দিয়েছে। রাজনীতির মাঠে এই ধরনের মুনাফেকি ও আত্মঘাতী খেলা জামায়াতের জন্য নতুন কিছু নয়।
সরকারের বুদ্ধিমত্তা এবং ষড়যন্ত্রের চূড়ান্ত পরিণতি
বর্তমান সরকার এবং দায়িত্বশীল রাজনৈতিক মহল অত্যন্ত পরিপক্বতা ও বুদ্ধিমত্তার সাথে এই প্রতিপক্ষীয় দুরভিসন্ধি মোকাবেলা করে চলেছে। সরকারের কৌশলী অবস্থানের কারণে এই হঠকারী চক্রান্তগুলো একে একে ব্যর্থ হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের পরিষ্কার অভিমত—
এনসিপির পরিণতি: লাগামহীন অহমিকা এবং জনগণের নাড়ির স্পন্দন বুঝতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে নবগঠিত এনসিপি খুব দ্রুতই রাজনৈতিক অপ্রাসঙ্গিকতা ও অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।
জামায়াতের পরিণতি: ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে আওয়ামী পুনর্বাসনের এই গোপন প্লট তৈরি করার কারণে নাটের গুরু জামায়াত শেষ পর্যন্ত তাদের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পূর্ণ হারাতে বসেছে। এর অনিবার্য ফলশ্রুতিতে তারা আবার সেই অতীতের স্বৈরাচারী আমলের প্রাথমিক অবস্থার মতো ৭ থেকে ১১টি আসনের কোণঠাসা পরিসরেই ফিরে যেতে বাধ্য হবে।
সর্বশেষ,
রাজনীতিতে হঠকারিতা, শিষ্টাচারহীনতা এবং গোপন চক্রান্ত কখনো দীর্ঘস্থায়ী হয় না। এনসিপির অপরিপক্বতা এবং জামায়াতের পুরোনো দিনের রাজনৈতিক মুনাফেকি আজ উন্মোচিত। জনরোষ এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার নির্মম সত্য এই যে, আত্মঘাতী এই খেলার চূড়ান্ত পরিণতিতে কুশীলবরা নিজেদের হারিয়েই ইতিহাসের আড়ালে চলে যাবে।
মোঃ লুৎফুল হাই ভূঁইয়া
প্রতিষ্ঠাতা,সভাপতি
তারেক রহমান সাইবার ফোরাম (TRCF)
Md Ismail Zabihullah, Mahdi Amin, Dr. Md Taufiqul Islam Mithil, Abm Mosharrof Hossain, Adv Abdul Mannan, Nilufar Chowdhury Moni, Mahmuda Habiba, Nayab Yusuf, Shakila Farzana, Momtaj Alo, Adv Arifa Sultana Ruma, Adv Hasan Tarique Chowdhury, Barr Abdul Mazid Taher, Sinha Sayeed, Sayedul Islam Montu, Zintu Ahmed, Wasim Iftekharul Haque, Nasimul Gani Khan, Rajib Ahasan Chowdhury Pappu, Rajon Bapari, Shovan Rezwanul Haque, Kamrul Ahsan Nomani, Adv Anwarul Islam.

